গাজা শান্তি কাউন্সিল গঠনের পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প: ইসরায়েলি গণমাধ্যমের নতুন তথ্য

গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন ‘গাজা শান্তি কাউন্সিল’ বা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন খুব শীঘ্রই এই কাউন্সিলের রূপরেখা এবং এর সদস্যদের নাম ঘোষণা করতে পারে। এই উদ্যোগটি গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা এবং ওই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শান্তি কাউন্সিলের গঠন ও উদ্দেশ্য

প্রস্তাবিত এই কাউন্সিলের মূল লক্ষ্য হবে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দেওয়া। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই কাউন্সিলে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে যারা হামাসের সাথে যুক্ত নন এবং যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চাচ্ছে একটি বিকল্প বেসামরিক শাসন কাঠামো তৈরি করতে, যা গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং মানবিক সহায়তা বিতরণে সমন্বয় করবে।

আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকা ও সহযোগিতা

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু প্রভাবশালী দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং মিশরের মতো দেশগুলো এই কাউন্সিল পরিচালনায় এবং এর অর্থায়নে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই এই দেশগুলোর সাথে প্রাথমিক আলোচনা সেরে ফেলেছে বলে জানা গেছে। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বা পিএলও এই কাউন্সিলে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে বা তাদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

ইসরায়েলের অবস্থান ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

ইসরায়েল সরকারের ভেতরে এই প্রস্তাব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার গাজার নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইলেও, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই কাউন্সিল একটি বিকল্প বেসামরিক প্রশাসন হিসেবে কাজ করতে পারে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গাজা যাতে আবারও কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর শক্তিকেন্দ্রে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই শান্তি কাউন্সিলের অন্যতম প্রধান শর্ত হতে পারে।

সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তা

এই পরিকল্পনা সফল হওয়া নিয়ে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। গাজার ভেতরে স্থানীয়দের সমর্থন ছাড়া এ ধরণের কোনো কাউন্সিল টেকসই হওয়া কঠিন। এছাড়া হামাস এই উদ্যোগকে কীভাবে নেবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই একতরফা প্রস্তাবকে স্বীকৃতি দেবে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত ফলাফল পাওয়ার প্রবণতা এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *