জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ঘনিয়ে এলেও পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের দাবি—অন্য কোনো দল বা জোটের প্রার্থী নয়, বরং দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াই-সংগ্রামে মাঠে থাকা দলের নিজস্ব নেতাদের মধ্য থেকেই কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হোক।
পিরোজপুর জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো এই আসনের ঐতিহাসিক নির্বাচনী সমীকরণ। বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে আসনটি শরিক দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়ায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। এবারও আসনটি জোটের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জনে তৃণমূলের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
মনোনয়ন দৌড়ে যারা রয়েছেন:
পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপি ও জোটের অন্তত সাতজন হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়নের অপেক্ষায় আছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
-
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন: জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।
-
নজরুল ইসলাম খান: পিরোজপুর জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক।
-
হাফিজ আল আসাদ সাঈদ খান: জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও সাংবাদিক।
-
এলিজা জামান: বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
-
সাইদুল ইসলাম কিসমত: জেলা বিএনপির সদস্য সচিব।
-
মো. আলাউদ্দিন খান: স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক।
-
মোস্তফা জামাল হায়দার: ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান।
জামায়াত ও বিএনপির লড়াইয়ের সম্ভাবনা:
পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এখান থেকে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমান বাস্তবতায় জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন সাঈদীপুত্র ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী। স্থানীয়রা মনে করছেন, বিএনপি যদি নিজস্ব প্রার্থী দেয়, তবে এখানে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে একটি জমজমাট ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে।
নেতাকর্মীদের আর্তি:
মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, “বিগত ১৭ বছর যারা মামলা-হামলা সহ্য করে জেল খেটেছে, রাজপথে লড়েছে, সেই কর্মীরা আজ কাঁদছে। তারা ধানের শীষে ভোট দিতে চায়, কিন্তু কার পেছনে মিছিল করবে সেই মানুষটিকে এখনো খুঁজে পাচ্ছে না। কর্মীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।”
সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, “দেশের স্বার্থে আমরা ক্ষুদ্র স্বার্থ অনেকবার ত্যাগ করেছি। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে জোটের প্রার্থীর ওপর নির্ভর করলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কাজ করার অনুপ্রেরণা হারিয়ে ফেলে। আমরা চাই পিরোজপুরের মাটি ও মানুষের সাথে মিশে থাকা কাউকে দল মনোনয়ন দিক।”
পিরোজপুর-১ আসনের ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ জন ভোটার এখন তাকিয়ে আছেন বিএনপির কেন্দ্র ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের দিকে। তৃণমূলের প্রত্যাশা—দলের সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারে এবার আর শরিক নয়, বরং নিজের দলের কোনো ত্যাগী নেতাকেই ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হবে।
