আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা না বাড়ানো হলে পুলিশের জন্য ‘ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা’ দাবি করেছেন পুলিশ সুপাররা (এসপি)। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে এই দাবি তোলা হয়।
সম্মেলনের বিবরণ: নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আয়োজনে এই সম্মেলনে ডিসি, এসপি, ডিআইজি, বিভাগীয় কমিশনার এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের লক্ষে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও দাবির কথা কমিশনের সামনে তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপারদের প্রধান দাবি ও পর্যবেক্ষণ:
-
ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা: এসপিরা জানান, নির্বাচনের মাঠে অনেক সময় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যদি পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে পুলিশকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়ার সুপারিশ করেন তারা।
-
বাজেট বৈষম্য দূর করা: বিগত নির্বাচনগুলোতে পুলিশের বাজেটে বৈষম্য ছিল বলে তারা অভিযোগ করেন এবং এবার পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান।
-
যানবাহন ও জনবল সংকট: নিয়মিত অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশের আধুনিক যানবাহন এবং অতিরিক্ত জনবল প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।
-
অসুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তা: ভোটকেন্দ্রে অসুস্থ বা প্রতিবন্ধী ভোটারদের সহায়তার জন্য পুলিশের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মীদের নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) অবস্থান:
-
বৈধ অস্ত্র উদ্ধার: নির্বাচনের আগে সব ধরনের বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন ডিসিরা।
-
যোগাযোগ ও নিরাপত্তা: দুর্গম অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য হেলিকপ্টার এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
-
প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অপতথ্য প্রচারকে নির্বাচনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সম্মেলনে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তারা আইনের শাসনের বাইরে কোনো কাজ করতে রাজি নন। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে কমিশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক সমর্থন চান তারা।
