বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা আসন্ন নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে এই আসনটি তাদের মিত্র দল ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ (এনসিপি)-র প্রার্থীর জন্য ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রুমিন ফারহানা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করার অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
রুমিন ফারহানার যুক্তি: রুমিন ফারহানা জানান যে, স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রবল চাপে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে আছি। সরাইল ও আশুগঞ্জের জনগণ চায় আমি তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে থাকি। তাদের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
দলের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া: বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জোটের ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে এই আসনটি মিত্র দলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন, তিনি এখনও দলের প্রতি অনুগত এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে জনমতের প্রতিফলন ঘটানোই তার মূল লক্ষ্য।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রুমিন ফারহানার এই বিদ্রোহী প্রার্থিতা বিএনপি জোটের ভোটের সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
