পূর্ব কঙ্গোর পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে সশস্ত্র গোষ্ঠী এম-তেইশ নতুন করে অগ্রসর হওয়ায় বিশাল এলাকা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই সংঘর্ষের ফলে দুই লক্ষেরও বেশি সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে গেছে।
পালিয়ে যাওয়া পরিবারগুলো জানাচ্ছে, একদিকে তীব্র গোলাগুলি, অন্যদিকে স্থানীয় গ্রামে আগ্রাসন—সব মিলিয়ে মানুষজন আতঙ্কে দিশেহারা। যারা পালাতে পেরেছে, তারা খুব অল্প কাপড়, সামান্য খাবার ও শিশুদের কোলে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ হাঁটছে নিরাপদ স্থানের সন্ধানে।
বহু নিহত, বাড়ছে মানবিক সংকট
এই সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাধারণ গ্রামবাসী, নারী, শিশু এবং বৃদ্ধও রয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে জায়গা না থাকায় আহত অনেককে খোলা জায়গায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানাচ্ছে, সংঘর্ষের কারণে বহু এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ—কোনো কিছুরই পর্যাপ্ত যোগান নেই। শিশুদের মাঝে অপুষ্টি ও রোগব্যাধি দ্রুত বাড়ছে।
এম-তেইশের অগ্রগতি ও সরকারি বাহিনীর পিছু হটা
সশস্ত্র গোষ্ঠী এম-তেইশ সামরিকভাবে বেশ কিছু কৌশলগত এলাকা দখল করেছে। সরকারি বাহিনী অনেক জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে তুললেও অনেক স্থানে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ভয়ের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে। কারণ প্রতিটি দখল নেওয়া এলাকায় মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছে, গ্রামগুলো খালি হয়ে যাচ্ছে, পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
শান্তিচুক্তি ভেঙে পড়ার শঙ্কা
এক সময় সংঘর্ষ বন্ধে আলোচনার মাধ্যমে যে শান্তি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সাম্প্রতিক এই সহিংসতার কারণে তা কার্যত ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় জনগণ মনে করছে—এভাবে লড়াই চলতে থাকলে অঞ্চলটি আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে শরণার্থী সংকট দেখা দেবে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও সহায়তার আহ্বান
সংঘর্ষ বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, জরুরি খাদ্য সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও চিকিৎসাকর্মীর অভাব দ্রুত পূরণ করতে না পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নেবে।
মানুষ এখন মূলত একটি আশার দিকেই তাকিয়ে আছে—সহিংসতা বন্ধ হোক, নিরাপত্তা ফিরে আসুক, এবং তারা যেন আবার ঘরে ফিরতে পারে। কিন্তু সংঘাতের বর্তমান গতিপ্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে, পূর্ব কঙ্গোর মানুষকে আরও দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হবে।
